ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় মদদে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে কটাক্ষ সহ্য করা হবে নাঃ বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি

প্রকাশিত: ৯:৪৩ পূর্বাহ্ণ, অক্টোবর ২৮, ২০২০

ফ্রান্সে রাষ্ট্রীয় মদদে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) কে কটাক্ষ করে ব্যঙ্গচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে। এর আগে দেশটির একটি ম্যাগাজিন একই ধরনের ঘটনা ঘটিয়ে বিশ্ব মুসলিমের আবেগ-অনুভূতিতে আঘাত করেছে। ফলে মুসলিম উম্মাহ বিক্ষুব্ধ ও প্রতিবাদ মুখর হয়ে উঠেছে। এই ন্যক্কারজনক ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে অবিলম্ব ব্যঙ্গচিত্র প্রত্যাহার ও বিশ্ব মুসলমানদের কাছ নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনার জন্য ফ্রান্স সরকারের প্রতি আহ্বান জানান এবং অন্যথায় মুসলিম বিশ্ব ফ্রান্সের পণ্য বর্জনসহ দেশটির সঙ্গে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করবে এই হুসিয়ারী উচ্চারণ করে ২৮ অক্টোবর ২০২০ বুধবার গণমাধ্যমে বিবৃতি প্রেরণ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি। সংগঠনের চেয়ারম্যান মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, মহাসচিব এ্যাড. সাইফুল ইসলাম সেকুল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ লায়ন আল আমিন একথা বলেন।

নেতৃত্ববৃন্দ আরো বলেন, বিশ্বের কোটি কোটি মুসলিমের ধর্মীয় বিশ্বাসে আঘাত হানার অধিকার কারো নাই। রসুল (সা.)-এর অবমাননা মুসলিম উম্মাহ কোনো অবস্থাতেই বরদাশত করে না, করতে পারে না, করবে না। হযরত মুহাম্মদ (সা.) মানবজাতির সর্বশেষ আদর্শ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। কেউ রাসুলকে (সা.)-কে মহব্বত না করলে তিনি ইমানদার হবে না। যারা ইসলাম ও রাসুল (সা.)-এর বিরুদ্ধাচারণ করেন তারা না বুঝে করেন। প্রেসিডেন্ট ক্ষুদ্র রাজনৈতিক স্বার্থে মুসলিম বিদ্বেষীদের সূরে গলা মিলিয়েছেন, এবং তার প্রস্তাবিত আইন ফরাসী মুসলিমদের মূলধারার সমাজ থেকে আরো বিচ্ছিন্ন করবে।

ফ্রান্সে ইসলামকে দমিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। ফ্রান্সে কঠোর ধর্মনিরপেক্ষতার নীতির অধীনে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান থেকে আইন দ্বারা সরকারকে আলাদা করা হয়েছে। সেখানকার আইনে বিভিন্ন ধর্ম ও ধর্মীয় বিশ্বাসের সমান অধিকার রয়েছে। পশ্চিম ইউরোপে এই দেশটিতেই সবচেয়ে বেশি মুসলিম বসবাস করেন। সেখানকার বহু মুসলিম অভিযোগ করেছেন, তাদেরকে সুনির্দিষ্টভাবে টার্গেট করতে ধর্মনিরপেক্ষতা ব্যবহার করছে কর্তৃপক্ষ। তারা হিজাব নিষিদ্ধ করেছে। শুক্রবার প্যারিসের বাইরে বক্তব্য রাখেন ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। তিনি বলেন, ‘উগ্রপন্থি ইসলাম’ ফ্রান্সের জন্য বিপজ্জনক। কারণ, সবকিছুর ঊর্ধ্বে উগ্রপন্থি ইসলামে আইন প্রয়োগ করা হয়। কখনো কখনো তা একটি ‘কাউন্টার-সোসাইটি’ সৃষ্টি করে।ইসলাম ও মুসলিমদের নবী হজরত মুহাম্মদকে (সা.) নিয়ে ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁর বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে ফরসি পণ্য বয়কটেরফ্রান্সের এই হঠকারী সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে সোচ্চার হওয়ার জন্য মুসলিম বিশ্ব, ওআইসি এবং বিশ্বের শান্তিকামী জনতার প্রতি আহ্বান জানান নেতৃবৃন্দ।
নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, ফেসবুকের প্রধান নির্বাহী মাক জুকারবার্গ এর উচিৎ ইসলামবিদ্বেষী সবধরনের পোস্ট নিষিদ্ধ করা এবং ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক প্রচারণা বন্ধে জাতিসংঘকে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা এখন সময়ের দাবী। মানবাধিকারের দেশ ফ্রান্স Liberté, égalité, fraternité সকল মানুষের মর্যাদা সমান, যার যার ধর্ম সে পালন করে যাবে। অপরাধী যে হউক তার শাস্তি হবে, সেখানে ধর্ম জাতী দায়ী নহে। ইসলাম শান্তির ধর্ম, আমরা শান্তি চাই।প্রতিহিংসাপরায়ণতা আমাদের কারো কাম্য নয়।