আতঙ্কের পারদ চড়াচ্ছে করোনা

প্রকাশিত: ৯:৪৮ পূর্বাহ্ণ, নভেম্বর ১৮, ২০২০

ঢাকা : শহরে গভীর রাত ও সকালের দিকে ঠান্ডা আমেজ টের পাওয়া যাচ্ছে। তবে দেশের অনেক জেলায় জেকে বসেছে শীত।  শীতের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে, করোনা কি আরও বাড়বে? শীতের আগমনের সঙ্গে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ বাড়ার আশঙ্কা। তাপমাত্রা ওঠানামার সাথে ভাইরাসের সরাসরি সম্পর্ক না থাকলেও নানা কারণে বাড়তে পারে সংক্রমণ, বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে বিশেষজ্ঞদের ধারাণাই সত্যি হচ্ছে, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের দ্রুত বাড়ছে। দেশে মহামারী শুরুর পর লকডাউনসহ যেসব কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছিল, তার বেশিরভাগই তুলে নেওয়া হয়েছে। সরকারিভাবে এখন স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু সে বিষয়ে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না সাধারণ মানুষ। বাধ্যতামূলক হলেও মাস্ক পরছেন না সবাই। রাস্তায়, যানবাহনে, হাট-বাজারে জনসমাগম হচ্ছে আগের মতই; সামাজিক দূরত্ব রক্ষার কোনো বালাই থাকছে না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্বাস্থ্যবিধি মানার ক্ষেত্রে এই শৈথল্য শীতে করোনাভাইরাসের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

বাংলাদেশেও যে শীত মৌসুমে পরিস্থিতি খারাপ হতে পারে, সেই শঙ্কার কথা জানিয়ে আগাম প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও। সরকার প্রধানের নির্দেশনার পর রোডম্যাপ ধরে পরিস্থিতি মোকাবেলার কথা বলেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এ বি এম আবদুল্লাহ সম্প্রতি বলেছিলেন, শীতের সময় মানুষের জীবনযাপন পদ্ধতিতে যে পরিবর্তন আসে, সে কারণেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে। শীতে যেহেতু দরজা-জানালা বন্ধ থাকে, বদ্ধ ঘরে করোনাভাইরাস আসলে বাড়ে। সেজন্য বলা হয়, আলো-বাতাস ঠিকমত চললে করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি কম। কিন্তু বদ্ধ ঘরে এটা বাড়ে। এ কারণে একটা ভয় থেকেই যায়। চীনে এই সংক্রমণ শুরু হয়েছিল গত শীতে। শীতপ্রধান দেশে এর ভয়াবহতা বেশি দেখা গেছে। অনেক শীতপ্রধান দেশে এখন তা বাড়ছে। সব মিলিয়ে আসছে শীতে আবার এটা বাড়তে পারে।

এদিকে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে আরও ৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যা গত ৫৭ দিনে সর্বোচ্চ। আর গত একদিনে শনাক্ত হয়েছে আরও ২ হাজার ২১২ জন করোনা রোগী, যা গত ৭৬ দিনের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর দেশে করোনাভাইরাসে একদিনে ৪০ জনের মৃত্যু হয়। এর পর মৃত্যুর সংখ্যা তুলনামূলক কমতে থাকে। এদিকে গত ২ সেপ্টেম্বর দেশে একদিনে ২ হাজার ৫৮২ জন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এর পর প্রতিদিন ২ হাজারের নিচে শনাক্ত হয় করোনা আক্রান্ত রোগী। মঙ্গলবার (১৭ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাবিষয়ক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১১৭টি ল্যাবরেটরিতে ১৬ হাজার ৬০২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং ১৫ হাজার ৯৯০টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছেন দুই হাজার ২১২ জন। গত ৭৬ দিন পর যা সর্বোচ্চ। এ নিয়ে দেশে মোট শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল চার লাখ ৩৬ হাজার ৬৮৪ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মৃত ৩৯ জনের মধ্যে ৩০ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী রয়েছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৬ হাজার ২৫৪ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার হার ১৩ দশমিক শূন্য ৮৩ শতাংশ। এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় শনাক্তের হার ১৬ দশমিক ৯৭ শতাংশ এবং শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ৮০ দশমিক ৮১ শতাংশ। এছাড়া শনাক্ত বিবেচনায় মৃত্যুর হার এক দশমিক ৪৩ শতাংশ।

গত ৮ মার্চ দেশে প্রথম করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়। এরপর প্রথম করোনা রোগীর মৃত্যু হয় ১৮ মার্চ। আজ পর্যন্ত করোনায় মৃত মোট ৬ হাজার ২৫৪ জনের মধ্যে পুরুষ চার হাজার ৮১৩ জন (৭৬ দশমিক ৯৬ শতাংশ) এবং নারী এক হাজার ৪৪১ জন (২৩ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ)। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশের করোনা পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণে আসেনি। শীতে সারাবিশ্বে করোনা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে। বাংলাদেশেও এ পরিস্থিতির অবনতির শঙ্কা করছেন অনেকে।

এদিকে বিশ্বে করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ কোটি ৫৩ লাখ ৪৪ হাজার ৬৬০ জনে। আর এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিশ্বে মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ৩২ হাজার ৮০ জনে। এর মধ্যে সুস্থ হয়েছেন ৩ কোটি ৮৪ লাখ ৮৯ হাজার ৫১৯ জন। করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের সংখ্যা ও প্রাণহানির পরিসংখ্যান রাখা ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটার থেকে এই তথ্য জানা যায়। ওয়ার্ল্ডওমিটারের সবশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত হয়ে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে ২ লাখ ৫২ হাজার ৬৫১ জন এখন পর্যন্ত মারা গেছেন। বিশ্বে সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যাও এই দেশটিতে। এই পর্যন্ত ১ কোটি ১৫ লাখ ৩৮ হাজার ৫৭ জন এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পর মৃত্যু বিবেচনায় করোনায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশ হচ্ছে ব্রাজিল। আক্রান্তের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকলেও মৃত্যু বিবেচনায় দেশটির অবস্থান দ্বিতীয়। লাতিন আমেরিকার দেশটিতে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছে ৫৮ লাখ ৭৬ হাজার ৭৪০ জন এবং মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৬৬ হাজার ৬৭ জনের। আক্রান্তের দিক থেকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসা ভারত মৃত্যু বিবেচনায় আছে তৃতীয় স্থানে। এ পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ৮৮ লাখ ৭৪ হাজার ১৭২ জন। আর মৃত্যু হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৫৫৯ জনের। দেশে করোনাভাইরাসের আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। এখন পর্যন্ত মোট মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৬ হাজার ২১৫ জনে। এছাড়াও এখন পর্যন্ত দেশে মোট শনাক্তের সংখ্যা ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৭২ জন। গত বছরের ডিসেম্বরে চীন থেকে সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বিশ্বব্যাপী এ পর্যন্ত ১৮৮টি দেশে ছড়িয়েছে প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস। গত ১১ মার্চ করোনাভাইরাস সংকটকে মহামারি ঘোষণা করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডবিøউএইচও)।

অন্যদিকে,ভ্যাকসিন এলেই করোনাভাইরাস মহামারী থেকে রেহাই মিলবে না। সোমবার সতর্ক করে দিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা হু-এর প্রধান টেডরোজ আধানম ঘেব্রিয়েসুস। তার সতর্কবাণী, ভ্যাকসিন এলেই করোনা থেকে মুক্তি মিলবে বা স্বাভাবিক জীবন যাপনে ফিরে যাওয়া যাবে, এমনটা আশা করা উচিত নয়। তবে কীভাবে স্বস্তি মিলতে পারে, সেই পথও বাতলে দিয়েছেন তিনি। বিশ্বজুড়ে করোনার টিকি আবিস্কারের প্রতিযোগিতা চলছে। রাশিয়া ও চীন ভ্যাকসিন এনে ফেলেছে বলে দাবি। আবার অক্সফোর্ড, ফাইজার, মর্ডানাও টিকা বাজারে আনার শেষ ধাপে পৌঁছে গেছে। অনেকেই মনে করছেন প্রতিষেধক এসে গেলেই এই মাস্কবন্দি জীবন থেকে রোই মিলবে। আবার আগের মতো স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে পারবেন। সে সব আশায় পানি ঢেলে দিলেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান।

মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাব শুরুর বর্ষপূর্তি হতে চলল। ইতিমধ্যে সাড়ে পাঁচ কোটি মানুষ করোনা আক্রান্ত হয়েছেন। ১৩ লাখেরও বেশি মারা গিয়েছেন। শনিবার গোটা বিশ্বে এক দিনে সর্বোচ্চ ৬ লক্ষ ৬০ হাজার ৯০৫ জন কোভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়। এর আগে গত শুক্রবার ৬ লাখ ৪৫ হাজার ৪১০ জন আক্রান্তের সন্ধান মেলে। যা গত ৭ নভেম্বরের ৬ লাখ ১৪ হাজার ১৩ জন করোনা রোগী শনাক্তের রেকর্ড ভেঙেছিল। এমন পরিস্থিতিতে সতর্ক করলেন হু প্রধান। কী বললেন তিনি?

হু-এর প্রধান টেডরোজ আধানম ঘেব্রিয়েসুস বলেন, একটি ভ্যাকসিন আমাদের হাতে থাকা অন্য সরঞ্জামগুলোর পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে, তবে সেগুলো প্রতিস্থাপন করবে না। একটি ভ্যাকসিন একার শক্তিতে এই মহামারিকে থামাতে পারবে না। অর্থাৎ ভ্যাকসিন এলেও নিয়মিত পরীক্ষা, কন্ট্র্যাক্ট ট্রেসিং, মাস্ক-স্যানিটাইজার ব্যবহার ও সামাজিক দূরত্ববিধি মেনেই চলতে হবে। তার কথায়, ভাইরাসটির সংক্রমণ ছড়ানোর অনেক উপায় থাকছে। তাই নজরদারি চালিয়ে যাওয়া দরকার।” আধানম আরও জানিয়েছেন, “প্রাথমিকভাবে এই ভ্যাকসিনের সরবরাহকে সীমাবদ্ধ করা হবে। অগ্রাধিকার দেয়া হবে স্বাস্থ্যকর্মী, বয়স্ক ব্যক্তি এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে। আশা করছি এতে করে মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস পাবে এবং স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা পরিস্থিতি মোকাবিলায় মানিয়ে নিতে পারবে।

এদিকে বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, অনেকাংশেই করোনাভাইরাস আছে মোট চার রকমের, যা সাধারণ সর্দি-জ্বরের লক্ষণ সৃষ্টি করে। প্রতিটিই সহজে ছড়ায় শীতের সময়। ইনফ্লুয়েঞ্জা, রাইনোভাইরাস এবং আরএসভি নামে আরেকটি ভাইরাস– এর সবগুলোরই আচরণ মোটামুটি একই ধরনের। পাশাপাশি শীতের সময় একই সঙ্গে শীতকালীন ইনফ্লুয়েঞ্জা আর করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ের আশঙ্কা করছেন বিজ্ঞানী ও গবেষকরা।

রোগতত্ত্ব বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা শনাক্তকৃত রোগীর সংখ্যার কমপক্ষে দ্বিগুণ। শতকরা ৮০ ভাগ করোনা সংক্রমিত রোগীর কোনো ধরনের লক্ষণ ও উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে অনেকেই ল্যাবরেটরিতে নমুনা পরীক্ষা করাতে আসেন না। নমুনা পরীক্ষার মাধমে চিহ্নিত না হওযায় করোনা সংক্রমিত রোগী দিব্যি ঘুরে সংক্রমণ বাড়াচ্ছে। করোনা সংক্রমণরোধে ভ্যাকসিন কবে পাওয়া যাবে সে আশায় বসে না থেকে মুখে মাস্ক পরিধানসহ প্রযোজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার ব্যাপারে দেশব্যাপী ব্যাপক গণসচেতনতামূলক প্রচার-প্রচারণা চালানো প্রয়োজন বলে তারা মন্তব্য করেন। নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্বাস্থ্য অধিদফতরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, করোনা সংক্রমণরোধে প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি সঠিক নিয়ম মেনে চলার ব্যাপারে খোদ স্বাস্থ্যবিভাগের কর্মকর্তারাই উদাসীন।

তিনি বলেন, স¤প্রতি স্বাস্থ্য মহাপরিচালকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক সভায় একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বারবার মুখ থেকে মাস্ক খুলে একবার টেবিলে রাখছিলেন, আরেকবার পরছিলেন। এরমাঝেই তিনি পাশের কর্মকর্তার কথা বেমালুম ভুলে গিয়ে কয়েকবার হাঁচি-কাশি দেন। ওই কর্মকর্তা বলেন, যদি স্বাস্থ্য বিভাগের সর্বোচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তারাই স্বাস্থ্যবিধি সঠিক নিয়মে মেনে না চলেন তাহলে সাধারণ মানুষ অজ্ঞতার কারণে না মানাটাই স্বাভাবিক।

সোমবার (১৬ নভেম্বর) সন্ধ্যায় রাজধানীর নিউমার্কেট, এলিফ্যান্ড রোড ও সায়েন্স ল্যাবরেটরিসহ বিভিন্ন মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বালাই নেই। বেশিরভাগ ক্রেতাবিক্রেতা মাস্ক না পরেই কাছাকাছি দাঁড়িয়ে কথাবার্তা বলছেন। এর আগে করোনার সংক্রমণ যখন বাড়ছিল তখন মার্কেটগুলোর প্রবেশপথে জীবাণুমুক্তকরণ কক্ষ বসানো হলেও সেগুলো এখন অকেজো হয়ে পড়ে আছে।

বাংলাদেশে শীত থাকে তুলনামূলক কম সময়, কিন্তু তার মধ্যেই মানুষকে ভুগিয়ে যায় নানা রকম রোগ। জ্বর, সর্দি-কাশি, শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ, কোল্ড ডায়রিয়া, আমাশয়, চোখের প্রদাহ ও চর্মরোগ শীতের দিনের সাধারণ ব্যাধি। গত শীত মৌসুমে ১ নভেম্বর থেকে চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশে বিভিন্ন শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৫ লাখ ৩৮ হাজারের বেশি মানুষ, যাদের মধ্যে মৃত্যু হয় ৬১ জনের।