মতলব উত্তর জাতীয় মানবাধিকার সমিতির মিলন মেলা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত: ১২:২৮ অপরাহ্ণ, মার্চ ১৩, ২০২১

চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল বলেছেন, মানবাধিকার সুরক্ষায় বাংলাদেশ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করে চলেছে। বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতিকে সার্বজনীনতা, নিরপেক্ষতা ও ভেদাভেদ পরিহারের নীতি অনুসরণ করে মানবাধিকার রক্ষার জন্য একটি দুর্গ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করা উচিত বলে মন্তব্য করেছেন তিনি। শুক্রবার সকালে চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার এখলাছপুর বকুলতলার মেঘনা নদীর তীরে মতলব উত্তরে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি মতলব উত্তরে বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতি, মতলব উত্তর উপজেলা, ছেংগারচর পৌরসভা ও সকল ইউনিয়ন কমিটির পরিচিতি, আলোচনা সভা ও মিলন মেলায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে চাঁদপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন রুহুল এ কথা বলেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দেশের সব নাগরিকের মানবাধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ এবং অঙ্গীকারাবদ্ধ। তাই জনগণের মানবাধিকার ও মর্যাদা রক্ষায় সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও বলেন, ২০০৯ সালে শেখ হাসিনা সরকার গঠনের পরপরই স্বাধীন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠন করেন। সরকারের আন্তরিকতা ও সহযোগিতায় বর্তমানে এ কমিশনের সক্ষমতা অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কমিশন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে ও স্বাধীনভাবে মানবাধিকার সুরক্ষায় ও উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী দেশের সব নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী হলেও দরিদ্র জনগোষ্ঠী আর্থিক অস্বচ্ছলতা ও অন্যান্য কারণে এ অধিকার থেকে বঞ্চিত হতেন। তাদের এ অধিকার প্রতিষ্ঠায় শেখ হাসিনা সরকার আইনগত সহায়তা দেওয়ার আইন প্রণয়ন করেছে এবং এ আইনের অধীনে জাতীয় আইনগত সহায়তা প্রদান সংস্থা গঠন করা হয়েছে। বর্তমানে এ সংস্থা বিনা খরচে দরিদ্র ও অসহায় মানুষদের আইনি সহায়তা দিয়ে তাদের আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকার প্রতিষ্ঠা করছে। তিনি আরো বলেন, বর্তমান সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে আমাদের মানবাধিকার পরিস্থিতির ক্রমান্বয়ে উন্নতি ঘটছে। এক্ষেত্রে বিচার বিভাগেরও অবদান রয়েছে। বিশেষ অতিথি হিসাবে বক্তব্য রাখেন মতলব উত্তর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা এম এ কুদ্দুস। মতলব উত্তর মানবাধিকার সমিতির সভাপতি মোঃ শহীদ উল্লাহের সভাপতিত্বে ও মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিম সঞ্চালনায় আরো উপস্থিত বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জাতীয় মানবাধিকার সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মোঃ মঞ্জুর হোসেন ঈসা, মহাসচিব এডভোকেট সাইফুল ইসলাম সেকুল,মানবাধিকার সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক লায়ন আল আমিন, মতলব উত্তর প্রেসক্লাবের সভাপতি বোরহান উদ্দিন ডালিম, বাংলাদেশ শিশু সাহিত্যিক ফোরাম সভাপতি হুমায়ূন কবির ঢালী, চাঁদপুর অনলাইন সাংবাদিক ফোরাম সভাপতি মো. বিপ্লব সরকার, বাংলাদেশ সাহিত্য কল্যান পরিষদ সভাপতি রাজিয়া সুলতানা, মতলব উত্তর সৎ সঙ্ঘ ফাউন্ডেশন সভাপতি জিএম ফারুক। বিশেষ বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখবেন সংগঠনের ছেংগাচর পৌরসভার সভাপতি আবদুল মালেক খান,উপজেলা কৃষক লীগের সাধারণ সম্পাদক জি এম ফারুক, মতলব উত্তর ইঞ্জিনিয়ার এন্ড আর্কিটেকচার এসোসিয়েশন (মুইয়্যা) এর সভাপতি ইঞ্জিঃ মোঃ এনামুল হক খান সুমন , সংগঠনের মতলব উত্তর উপজেলার সাধারন সম্পাদক কবি নূর মোহাম্মদ খান ও সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ সাহেদ সালাম প্রমুখ। অনুষ্ঠানে বিশেষ আমন্ত্রনে অংশগ্রহন করেন কুষ্টিয়া জেলা জাতীয় মানবাধিকার সমিতির সভাপতি জান্নাতুল ফেরদৌস জিনিয়া, সহ-সভাপতি অর্পন মাহমুদ, সাহেদ হোসেন প্রেম,নাইম আহমেদ শ্যামল, কুমিল্লা জেলা সভাপতি পারভেজ হোসেন বাবু, কেন্দ্রীয় নেত্রী আবৃতি শিল্পি আইরিন আক্তার দিবা। অনুষ্ঠানে মানবাধিকার কর্মীদের সম্মাননা ক্রেস্ট, আইডি কার্ড, স্মরনিকা ও টিশার্ট বিতরণ করা হয় এবং ১০০ মিটার দৌড় প্রতিযোগিতা, মহিলাদের চেয়ার সেটিং প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। দিনভর উপজেলা প্রায় ৪ শতাধিক মানবাধিকার কর্মী মিলন মেলায় আনন্দ উপভোগ করেন। উদ্বোধনী বক্তব্যে সংগঠনের চেয়ারম্যান মোঃমঞ্জুর হোসেন ঈসা বলেন, অধিকার প্রতিষ্ঠিত করতে হলে নিজেদেরকে সোচ্চার হতে হবে। এদেশের মানুষ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠিত না করে দলীয় সংকীর্ণতায় থেকে নিজেদের বিবেককে নিজেরাই স্তব্ধ করে দিচ্ছে। স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তীতে দাড়িয়ে বলতে হয় আগামী দশ বছর পর আমাদের নতুন বঙ্গবন্ধু, শেরে বাংলা, ভাসানী, সরওয়ার্দীর মত মহান ব্যক্তিদের প্রতিচ্ছবি তৈরী হচ্ছে না। সবাই রাতারাতি বড়লোক হতে চায়। তাইতো আমরা আমাদের সন্তানদেরকে মানুষ না বানিয়ে ইঞ্জিনিয়ার, ডাক্তার, ব্যরিস্টার, নায়ক, গায়ক বানানোর অসুস্থ প্রতিযোগিতায় মেতে উঠি।আমার ছেলে সত্যি বড় হয় কিন্তু ইঞ্জিনিয়ার করলে রডের পরিবর্তে বাশ দেয়। আর ডাক্তার তৈরী করলে কসাই হয়ে যায়। তখণ আমাদের বাবা-মায়ের শেষ আশ্রয় বৃদ্ধাশ্রমে চলে যায়। আমরা এখান থেকে জাতিকে বের করার জন্য মানবিক মানুষ করার জন্য কাজ করে চলেছি। মতলব উত্তরবাসী আমাদের এই কাজের সারথি হিসেবে যারা যোগ দিয়েছেন তারা প্রথমে নিজেরা মানবিক হবেন। পরবর্তীতে সকলের সাথে মানবিক আচরণ করবেন। মনে রাখবেন দায়িত্বপ্রাপ্ত কেউ যদি ভক্ষকের ভূমিকায় অবর্তীণ হন তাদের কোন ক্ষমা নেই। সবাইকে দেশে প্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে কাজ করার আহব্বান জানান।