মির্জা ফখরুল বলেন, ‘মোদি সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে আসছেন নাকি নির্বাচনী প্রচারণা চালাতে

প্রকাশিত: ৪:০১ অপরাহ্ণ, মার্চ ২৩, ২০২১

এস কে মামুন বাংলাদেশের স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আসছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এ নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী কি সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন করতে আসছেন, নাকি পশ্চিমবঙ্গে যে নির্বাচন হচ্ছে, সেই নির্বাচনের প্রচারণা চালাতে আসছেন? পশ্চিমবঙ্গ, ভারতের পত্রিকা ও আমাদের দেশের পত্রিকায় সেই ধরনের ইঙ্গিতই আমরা পাচ্ছি।’ মঙ্গলবার (২৩ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে আহত বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেলকে দেখতে এসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। ফখরুল বলেন, মূলত মোদির এই সফরের লক্ষ্য হচ্ছে, সেইসব মন্দির পরিদর্শন করছেন যেগুলোতে তাদের অনুসারী রয়েছেন। তাদের পশ্চিম বাংলা যে ভোট রয়েছেন, তার জন্য তিনি চেষ্টা করছেন। এটা পত্রিকায় লেখা হচ্ছে। তিনি বলেন, সুবর্ণজয়ন্তীতে বিদেশি মেহমানরা আসছেন, এই কারণ দেখিয়ে আমাদের কর্মসূচিগুলো বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। মানুষের চলাচলে সম্পূর্ণ বাঁধা সৃষ্টি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে মধ্যে আমাদের প্রতিবেশী ৩টি বন্ধু দেশের প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি এসে গেছেন। আগামী ২৬ মার্চ নরেন্দ্র মোদি আসবেন উল্লেখ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমরা সব সময় দেশি-বিদেশি বন্ধুদের স্বাগত জানাই। সুবর্ণজয়ন্তীতে আমরা তাদেরকে অবশ্যই স্বাগত জানাবো। কিন্তু দুর্ভাগ্য হচ্ছে সরকার সুবর্ণজয়ন্তী পালন করছে জনগণকে বাদ দিয়ে। জনগণ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। সরকারের সুবর্ণজয়ন্তীর অনুষ্ঠানগুলোতে মুক্তিযোদ্ধাদের কোনো অবস্থান নেই। এমনকি রাজনৈতিক দলগুলোর কোনো অবস্থান নেই। শুধুমাত্র বিদেশি মেহমানদের নিয়ে এসে দেখানো হচ্ছে, বলানো হচ্ছে উন্নয়নের লহরী বয়ে যাচ্ছে। ফখরুল বলেন, বাংলাদেশ ৫০ বছর হয়েছে, দুর্ভাগ্য হচ্ছে আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকারগুলো হারিয়ে ফেলেছি। মানুষের অধিকারগুলো হারিয়ে ফেলেছি। এখানে সরকার যে পরিস্থিতিতে সরকার দেশ পরিচালনা করছেন এটা কোনো মতোই গণতন্ত্রের জন্য সহায়ক নয়। তারা সংবিধানকে সংরক্ষণ করছে না। এমনকি আজকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হচ্ছে। এই বিষয়গুলো আমাদেরকে উদ্বিগ্ন করছে। আমরা চাই দেশে শান্তি থাকুক ও বিদেশিরা আসুক। তিনি আরও বলেন, আমরা বরাবরই বলে আসছি, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরও উন্নত করতে হলে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের যে অভিন্ন নদীগুলো রয়েছে তার হিস্যা-মীমাংসা হওয়া উচিত। সীমান্ত হত্যা বন্ধ হওয়া উচিত। এটা অমানবিক, পৃথিবীর কোনো দেশে এটা আছে কি না জানি না। সরকার বলে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের এতো বন্ধুত্ব সম্পর্ক, অথচ এই সমস্যার সমাধান করতে পারেন না। ফখরুল বলেন, ভারতের সঙ্গে পানির সমস্যা সমাধান হচ্ছে না। ফেনীর পানিও তারা একতরফাভাবে নিয়ে গেছে। আমরা এখনও প্রত্যাশা করি বাংলাদেশ সরকার আমাদের দাবিগুলোকে সঠিকভাবে ভারতের কাছে উপস্থাপন করে সমাধান করবেন। করোনা প্রসঙ্গে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের (সরকার) নিয়তই ঠিক নেই। তাদের লক্ষ্য প্রত্যকটি বিষয় থেকে দুর্নীতি করা। ভ্যাকসিন নিয়ে অনেক কথা এসেছে, যারা এখন করোনা আক্রান্ত হচ্ছে তারা প্রত্যেকে ভ্যাকসিনের প্রথম ডোজ নিয়েছেন। দক্ষিণ বিএনপি সাধারণ সম্পাদক কাজী আবুল বাসার, দক্ষিণ স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম, দক্ষিণ যুবদলের যুগ্ম সম্পাদক আনন্দ শাহ বাকি বিল্লাহ ও ছাত্রদল নেতা শাকিল চৌধুরী প্রমুখ।