দুদিন ধরে জ্বলছে সুন্দরবন

প্রকাশিত: ১১:৪০ পূর্বাহ্ণ, মে ৪, ২০২১

বাগেরহাট: পূর্ব-সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের ২৪নং কম্পার্টমেন্টের আওতাধীন দাসের ভাড়ানী টহল ফাঁড়ির মাঝেরচর এলাকায় গহীন সুন্দরবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ৩ মে (সোমবার) সকাল অনুমান পৌনে দশটার দিকে স্থানীয়রা শরণখোলা-চাঁদপাই রেঞ্জের মধ্যবর্তী এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলি দেখে প্রথমে সংশ্লিষ্ট দাসের ভাড়ানী ক্যাম্পের বনরক্ষীদের খবর দেন।

খবর পেয়ে শরণখোলা রেঞ্জের স্টেশন কর্মকর্তা আ. মান্নানের নেতৃত্বে  দাসের ভাড়ানী, ভোলা ও নাংলী টহল ফাঁড়ির একদল বনরক্ষী সহ স্থানীয় (সিপিজির) সদস্যরা বনের ওই এলাকায় যান। পাশাপাশি শরণখোলা ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট একই দিন দুপুরে ক্যাপ এলাকায় পৌঁছালেও লোকালায় হতে অগ্নিকাণ্ডের এলাকা দুর্গম হওয়ায় বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত তারা ঘটনাস্থলে পানি সরবরাহ করতে পারেননি।

তবে, বনবিভাগ জানায়, অতিরিক্ত তাপদাহের কারণে মাটির নিচে বিভিন্ন প্রজাতির জমে থাকা গাছের পাতা গরম হয়ে প্রাকৃতিক ভাবে এ অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছে। অপরদিকে, স্থানীয়দের মতে, বনের মধু সহ নানা প্রকার সম্পদ চোরাই পথে যারা আহরণ করেন তাদের অসাবধানতার কারণে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটতে পারে।

এছাড়া, অগ্নিকাণ্ডের খবর পেয়ে বন-বিভাগের বিভাগীয় কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন, শরণখোলা রেঞ্জের (এসিএফ) মো. জয়নাল আবেদীন, সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মো. মিজানুর রহমান, শরণখোলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. সাইদুর রহমান শরণখোলা উপজেলা প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. এমাদুল হক (শামীম) সহ নানা শ্রেণী পেশার মানুষ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, বনরক্ষীদের চোখ ফাঁকি দিয়ে কিছু অসাধু মানুষ গভীর জঙ্গলে ঢুকে মাছ, কাঁকড়া ও মধু সহ নানা সম্পদ সংগ্রহ করে।

তাদের অসাবধানতার কারণে এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে সুন্দরবনে। এ অগ্নিকাণ্ডের কারনে বন্যপ্রাণীদের ক্ষতি হতে পারে। তাই সুন্দরবন সুরক্ষায় সবাইকে আরো সচেতন হতে হবে। এ ব্যাপারে শরণখোলা রেঞ্জের (এস.ও) আ. মান্নান জানান, বাতাসের তীব্রতার কারণে আগুন বনের প্রায় দেড়-থেকে দুই একর এলাকায়  ছড়িয়ে পড়েছে। তবে লতাপাতা ছাড়া বড় গাছগুলোর যাতে কোন ক্ষতি না হয়, সে জন্য চারদিক থেকে ইতিমধ্যে নালা কাটা হয়েছে। ফাঁয়ার সার্ভিসের কর্মীরা পানি সরবরাহ শুরু করলে আর কোন বিপদ থাকবে না। তাছাড়া বন-বিভাগ ছাড়াও আগুন নিভানোর কাজে স্থানীয় বাসিন্দারা সহযোগিতা করে যাচ্ছেন। পাশাপাশি আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছি। আশা করি রাতের আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হবে।